ইঁদুরের কল্যাণে নতুন ঘর পেলের মর্তুজা - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Monday, 8 November 2021

ইঁদুরের কল্যাণে নতুন ঘর পেলের মর্তুজা


সময় ডেস্ক :
বাবার রেখে যাওয়া জীর্ণ ঘরে মা আর এক মেয়েকে নিয়ে থাকেন মর্তুজা খাতুন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কিছু কিছু করে টাকা জমিয়েছিলেন। ইচ্ছে ছিল জমানো টাকায় একটি ঘর তৈরি করবেন। কিন্তু সেই টাকা কেটে ফেলে ইঁদুর। সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে ভেঙে পড়েন মর্তুজা খাতুন। 


এই খবর পেয়ে এগিয়ে আসে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন। সেই সংগঠন তাকে একটি আধাপাকা ঘর তৈরি করে দিল। 

রোববার বিকেলে সংগঠনের দায়িত্বশীল সদস্যরা নরসিংদী বেলাব উপজেলার মর্তুজা খাতুনের কাছে ঘর বুঝিয়ে দেন। চার চালা বিশিষ্ট সেমি পাকা ঘর, সঙ্গে একটি বাথরুম, একটি টিউিবওয়েল ও একটি রান্না ঘর পেয়েছেন তিনি। 


মর্তুজা খাতুনের বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার পাটুলি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মুগায়। তার বাবা মৃত মানিক চান এবং মা আবেদা খাতুন। প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছামতী গ্রামের নুরে আলমের সঙ্গে। তার ঘরে একটি কন্যা সন্তান হয়। কিন্তু সংসার বেশি দিন টিকেনি। এক পর্যায় বিয়ে ভেঙে যায়। স্থায়ীভাবে বাবার বাড়ি চলে আসেন র্মতুজা খাতুন। এসে ৮০ বছরের বেশী বয়সী মাকে নিয়ে সংসারের ঘানি টানতে থাকেন। টিনের একচালা ছাপড়া ঘরে থাকেন তারা। বৃষ্টি এলেই ভিজে যায় ঘরের সব জিনিসপত্র। 


মর্তুজা খাতুন জানান, বাবা দুই শতাংশ জমি রেখে যান। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় ও একটি ঘর নির্মাণের জন্য টাকা সঞ্চয় করতে থাকেন তিনি। সেই টাকা রেখেছিলেন ঘরের মেঝেতে গর্ত করে। একদিন জমানো ৭০ হাজার টাকা গর্ত থেকে বের করতে গিয়ে দেখেন ইঁদুর সব টাকা টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলেছে। মর্তুজা খাতুনের আহাজারিতে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। তারা সমবেদনা জানান। সেখানে সাইলেন্ট হ্যান্ডস সার্পোট সোসাইটির স্থানীয় প্রতিনিধি মঞ্জু আহম্মদে উপস্থিত ছিলেন। 


ঘটনা জানালে তারা ওই নারীর সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। উদ্যোগ নেন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার। দীর্ঘ দিন কাজ শেষে মর্তুজাকে চার চালা বিশিষ্ট সেমি পাকা ঘর, একটি বাথরুম একটি টউিবওয়েল ও একটি রান্না ঘর বুঝিয়ে দেন। 


নতুন ঘর পেয়ে অত্যন্ত খুশি মর্তুজা খাতুন। তিনি বলেন, সঞ্চয়ের টাকা নষ্ট হওয়ার পর আমি দিশেহারা হয়ে পড়ি। কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এমন সময় আমার পাশের বাড়ির মঞ্জু এসে আমাকে সহযোগিতার কথা বলেন। তার সহযোগিতায় আমি এ ঘর পয়েছি। আমি দোয়া করি আল্লাহ তাদের যেন ভালো রাখেন। 


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইরফানুল হক ভুইয়া জামান বলেন, উদ্যোগটি খুবই মহৎ এবং প্রশংসার যোগ্য। আমি দোয়া করি, তারা যেন সামনের দিকে আরো এগিয়ে যেতে পারে। 


সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাহিদ আহমদে বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে দেশের অসহায় দরিদ্র ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা। যার ধারাবাহিকতায় এ ঘর নির্মাণ। 


এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। 


No comments:

Post a Comment

Pages