তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে রাহাতকে হত্যা করে সাদি, সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Wednesday, 27 October 2021

তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে রাহাতকে হত্যা করে সাদি, সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি


বিশেষ সংবাদদাতা :
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাতের চেয়ে বয়সে সাদি ছিলেন ৫ বছরের বড়। আর এই সিনিয়রিটি দ্বন্দ্বে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাহাতকে হত্যা করে সাদি।


বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর।


আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সামসুদ্দোহা সাদিকে (২৩) গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সাদি প্রথমে পালিয়ে ঢাকার মিরপুরে অবস্থান করে সেখান থেকে আত্মগোপনে কুষ্টিয়ায় চলে যান।



পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, রাহাত খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ায় ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি। বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের নির্দেশনায় এলআইসি’র একটি চৌকস টিম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দুর্গম চর এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি সামসুদ্দোহা সাদিকে গ্রেফতার করে।


সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাহাতকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন সাদি। বয়সে সাদি ছিলেন রাহাতের চেয়ে বড়। এজন্য তিনি রাহাতের কাছে ‘জ্যেষ্ঠতা’ (সিনিয়রিটি) দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে উভয়ের বিবাদের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।


তার আগে গত বৃহস্পতিবার (২১অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ছুরিকাঘাতে খুন হন পুরান তেতলি গ্রামের সুরমান মিয়ার ছেলে ও ওই কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাত।  তাকে উপুর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় একই কলেজের বহিস্কৃত ছাত্র  সামসুদ্দোহা সাদি ও তার সহযোগীরা। আরিফুল ইসলাম রাহাতের হত্যার ঘটনার পরপরই ঘাতক হিসেবে সামনে আসে সামসুদ্দোহা সাদির নাম।



ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে রাহাত তার চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম রাফির সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। পথে সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি কলেজে যান।  কলেজ থেকে বের হওয়ার পথে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার সময় রাহাতের সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই রাফির ভাষ্যে হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত হন সাদি। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে গা ঢাকা দেয় হত্যাকারীরা।


এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার রাতে রাহাতের চাচা শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় সাদিসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রধান আসামি করা হয় দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম পশ্চিমপাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে সামসুদ্দোহা সাদী, সিলাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে তানভির এবং দক্ষিণ সুরমা থানার আহমদপুর গ্রামের মৃত গৌছ মিয়ার ছেলে সানিকে।



No comments:

Post a Comment

Pages