সময় ডেস্ক : পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে চাঁদপুর শহরের ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র ঘোষকে গলা কেটে হত্যা করেছে সেলুন কর্মচারী রাজু চন্দ্র শীল। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃত রাজু চন্দ্র শীল চাঁদপুর শহরের বিপণিবাগ মার্কেটের টিপটিপ সেলুনে কাজ করতেন। রোববার তাকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীতে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেলের (এলআইসি) বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
সিআইডির ভাষ্য, রাজুর কাছে ধারের টাকা আদায় করতে গিয়েছিলেন নারায়ণ। ওই সময় তার সঙ্গে নারায়ণের ঝগড়া হয়। এরই জেরে তাকে ক্ষুর দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে রাজু।
বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ দই-মিষ্টি বিক্রি করতেন। পাশাপাশি লোকজনকে টাকা ধার দিতেন। কয়েক মাস আগে তার কাছ থেকে টাকা ধার নেয় রাজু। এরপর আর টাকা ফেরত দিচ্ছিল না সে। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণকে সেলুনে গিয়ে পাওনা টাকা নিয়ে যেতে বলেন রাজু। রাতে সেলুনে যান নারায়ণ। সেখানে তার সঙ্গে রাজুর কথা কাটাকাটি হয়। পরে ক্ষুর দিয়ে নারায়ণকে গলা কেটে হত্যা করে রাজু। এরপর সে বাসা থেকে বস্তা এনে নারায়ণের লাশ সেই বস্তায় ভরে টানতে টানতে পাশের পানির পাম্পের স্টাফরুমের পূর্বপাশের গলিতে ফেলে রাখে।
মুক্তা ধর আরো বলেন, সেই রাতে সেলুনের রক্ত ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে। সে দৃশ্য দেখে মার্কেটের নৈশপ্রহরী ইসমাইল। এত রাতে দোকানে কী করছে জানতে চাইলে রাজু বলে- পরদিন তাদের একটি ধর্মীয় উৎসব আছে। এ কারণে পুরোনো কাপড়সহ নোংরা মালামাল বস্তায় ভরছে সে। রাতেই রাজু এলাকা ছেড়ে প্রথমে ঢাকা ও পরে সুনামগঞ্জ চলে যায়। সেখান থেকে যায় সিলেট। হত্যাকাণ্ডের পরদিন সেলুন মালিক দোকানে ঢুকে বুঝতে পারেন- ভারি কিছু একটা তার দোকান থেকে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে খুন হন চাঁদপুরে ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ। পরদিন সকালে বিপণিবাগ মার্কেট এলাকার পানির পাম্পের স্টাফরুমের কাছ থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ওইদিন সেলুন কর্মচারী রাজুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের ছেলে রাজীব ঘোষ।

No comments:
Post a Comment