সময় ডেস্ক : বিয়ের নামে পুরুষদের ফাঁদে ফেলে অর্থ-সম্পদ লুট ও বিভিন্ন ধরণের প্রতারণার অভিযোগে নাছমিন আক্তার সিমু ওরফে ফাতেমা খাতুন ওরফে ফাতেমা আক্তার রোমানা ওরফে মিনুকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফি উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
এর আগে, ৮ সেপ্টেম্বর ওই নারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন প্রবাসী ইমাম হোসেন। এরপর মামলাটি এজাহার হিসেবে নিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানাকে নির্দেশ দেয় আদালত। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- মোস্তফা জামিল ও রাশেদ।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ১০ লাখ টাকা কাবিনে মিনু আক্তারকে বিয়ে করেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের দূর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমাম হোসেন। বিয়ের পর ইমাম হোসেন জানতে পারেন সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার রাশেদ নামে আরো এক যুবকের সঙ্গে চার বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে মিনুর। কিন্তু তবুও সবকিছু মেনে নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান তিনি। এরই মধ্যে মিনু আক্তার নাম পাল্টে হয়ে যান নাছমিন আক্তার সিমু। ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন গাজীপুরের মোস্তফা জামিলকে।
বিষয়টি ইমাম হোসেনের নজরে এলে মিনুর প্রতারণা সম্পর্কে খোঁজ নিতে থাকেন তিনি। পরে জানতে পারেন ২০০৮ সালে লুৎফুর রহমান নামে টাঙ্গাইলের আরো একজনকে বিয়ে করেছিলেন মিনু। ওই সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে তার। মূলত অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করাই তার কাজ।
ইমাম হোসেনের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, বুধবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মিনু আক্তার। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর আগে, সোমবার একই মামলার আরেক আসামি রাশেদ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
গোলাম মাওলা মুরাদ আরো বলেন, বিয়ের নামে নানাবিধ প্রতারণা করে আসছিলেন ভিন্ন ভিন্ন নামধারী ওই নারী। স্বামী ইমাম হোসেন বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তাকে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। কখনো মিনু আক্তার, কখনো নাছমিন আক্তার সিমু, কখনো আবার ফাতেমা খাতুন বা ফাতেমা আক্তার রোমানা পরিচয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। তার চারটি ভিন্ন ভিন্ন নামের জাতীয় পরিচয়পত্র, তিনটি কাবিননামা, একাধিক বিয়ে ও বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে মেলামেশার তথ্য রয়েছে। খাগড়াছড়ির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে থাকছেন গাজীপুরে।

No comments:
Post a Comment