নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় স্বামী হিফজুর রহমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় হিফজুর রহমানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান হিফজুর। এরপর দুপুরে তাকে সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জর করেন
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গোয়াইনঘাট আমলি আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস।
গোয়ানঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ধারণা হিফজুরই তার স্ত্রী সন্তানদের হত্যা করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে রিমান্ডে আনা হয়েছে।
এদিকে শনিবার (১৯ জুন) দুপুরে সিলেটের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, নিহত আলিমা বেগম পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে আমরা জেনেছি। ঘাতকের বটির কোপে তার গর্ভে থাকা পাঁচ মাসের সন্তানও মারা গেছে। আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ভ্রূণহত্যার অভিযোগও আনব।
তিনি বলেন, পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলো সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এবং বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এখন পুলিশের সন্দেহের তীর আহত হিফজুরের দিকেই।
গত বুধবার সকালে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের বসত ঘর থেকে হিফজুরের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩০), তার দুই সন্তান মিজান (১০) এবং তানিশার (৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় একই ঘর থেকে হিফুজরকে রক্তমাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে হিফজুর পুলিশি প্রহরায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনায় নিহত নারীর বাবা আয়ুব আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

No comments:
Post a Comment