সময় ডেস্ক : গ্রাম গঞ্জের হাট-বাজার সয়লাব রোমানা লাচ্ছা সেমাই এ। ২০১৯ সালে এ সেমাই মুরগীর খামারে তৈরির অভিযোগ থাকলেও এবার হাঁস খামারে রোমানা লাচ্ছা সেমাই তৈরির অভিযোগ উঠেছে। তাও দিনের বেলায় নয়, রাতের আধারে অবুঝ শিশুদের দিয়ে এ সেমাই তৈরি করা হচ্ছে। যা তদন্ত করলে শিশুশ্রম আইনসহ বিভিন্ন আইনে জেল- জরিমানা হতে পারে মালিকের।
গত সোমবার লালমনিরহাটের তেলীপাড়া বটতলা বাজারের পাশে মুরগী ও হাঁস খামারে সেমাই তৈরি করার অভিযোগে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিট্রেট এর একটি টিম ও ভোক্তা অধিকারের একটি টিম যৌথ অভিযানে যাওয়ার আগে খবর পেয়ে কারখানা বন্ধ করে চম্পাট হন মালিক রহিচ উদ্দিন ভুট্টু।
জানা গেছে, সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের তেলীপাড়া পোড়া বটেরতলা এলাকার এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত মুরগির খামার ভাড়া নেন রোমানা লাচ্ছ সেমাইয়ের মালিক রহিচ উদ্দিন ভুট্টু। শুধু মাহে রমজান শেষে ঈদুল ফিতরের ঈদকে ঘিরে ২০১৯ই সালে খামারটিতে মুরগী থাকলেও এবার হাঁস পালনের খামার করা হয়েছিল। এ সময়টাতে উক্ত খামারে হাস ও মুরগী না থাকার সুবাদে তা প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও ভাড়া নিয়ে ঈদ বাণিজ্যে করতে মেসার্স মায়ের দোয়া ফুড এন্ড বেভারেজ কোং, রোমানা লাচ্ছা সেমাই তৈরির করা হচ্ছে। যা পবিত্র মাহে রমজানের শুরু থেকে লালমনিরহাট, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা শহরসহ গ্রাম গঞ্জের হাট-বাজারে সয়লাব করা হয়েছে।
পোল্ট্রি খামার ভাড়া নিয়ে অস্বাস্থ্যকর, দুর্গন্ধম ও ভেজাল পরিবেশে কয়েকজন শিশু শ্রমিক দিয়ে বেশি ভাগ সময় রাতে তৈরি করা হচ্ছে রোমানা লাচ্ছা সেমাই। এ সেমাই খেয়ে মানুষের শরীরে নানান ধরনের রোগ ব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে। অথচ ফুড এন্ড বেভারেজ কোং, রোমানা লাচ্ছা সেমাই কোঃ কে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লাইন্সেস দিয়েছেন। যার লাইন্সেস নং আরপি-১৪৫/জি-০৪/২০১৯।
বিএসটিআই জানান, ২০১৮ সালে চাঁদনীবাজার এলাকায় রহিচ উদ্দিন ভুট্টু অস্বাস্থ্যকর, দুর্গন্ধময় পরিবেশে রোমানা লাচ্ছা সেমাই তৈরি করার অপরাধে প্রায় ৪০ মন সেমাই জব্দসহ জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের ২৩মে তেলীপাড়া পোড়া বটেরতল গ্রামে ফুড এন্ড বেভারেজ কোং, রোমানা লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ওই কারখানার মালিক রহিচ উদ্দিন ভুট্টুর নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এবারেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে মুরগী ও হাঁস খামারে সেমাই তৈরি করার অভিযোগে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিট্রেট এর একটি টিম ও ভোক্তা অধিকারের একটি টিম যৌথ অভিযানে যাওয়ার আগে রহস্যজনক কারণে অভিযানের খবর পেয়ে যান মেসার্স মায়ের দোয়া ফুড এন্ড বেভারেজ কোং ‘রোমানা লাচ্ছা সেমাই’ মালিক রহিচ উদ্দিন ভুট্টু। খবর পেয়ে কারখানা বন্ধ করে দ্রুত পালিয়ে যান তিনি।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, ভেজাল বিরোধী অভিযানের টিমের ২ জন সদস্যর সাথে মেসার্স মায়ের দোয়া ফুড এন্ড বেভারেজ কোং মালিক রহিচ উদ্দিন ভুট্টু গভীর সক্ষতা রয়েছে। তাই অভিযানের টিম বাহির হওয়ার আগে তিনি খবর পেয়ে যান। ফলে প্রশাসনের ভেজাল বিরোধী অভিযান সফল হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মেসার্স মায়ের দোয়া ফুড এন্ড বেভারেজ কোং মালিক রহিচ উদ্দিন ভুট্টু বলেন, আমি কোন খামারে সেমাই বানাচ্ছি না। আমার ঘরে আমি সেমাই বানাচ্ছি। পাশের জমিতে খামার আছে তাতে আপনার সমস্যা কি।
জেলা মার্কেটিং অফিসার আঃ রহিম বলেন, ভেজাল বিরোধী অভিযানে ইতিপূর্বেও মুরগীর খামারে সেমাই তৈরির অপরাধে তার জরিমানা হয়েছিল। এবারেও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর আঃ রশিদ বলেন, খামারে সেমাই তৈরির বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি ইতিমধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পরিচালক স্যারের সাথে কথাও বলেছি, সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায় বলেন, খামারের সেমাই তৈরি যা মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। হাস ও মুরগীর বিজটা, ঘর, বেড়াটাটি থেকে নানা ধরনের রোগ ছড়ায়। যা থেকে মানুষের ডায়রিয়া, আমাশা, রক্তপায়খানাসহ নানা রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবু জাফর আহমেদ বলেন, হাসের থামারে লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী খুব দ্রুত অভিযান পরিচালানা করা হবে। এতে প্রমান হলে সেমাই কারখানা মালিকের জেল-জরিমানা করে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

No comments:
Post a Comment