সু-স্বাস্থ্য ডেস্ক : দেশে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে গত ২৪ ঘণ্টায় এই মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১০৫ জন।
একই সময়ে নতুন শনাক্ত হয়েছেন আরও ছয় হাজার ৪৬৯ জন। যা দেশে একদিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড। দেশে এই প্রথম ৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হল।এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ছয় লাখ ১৭ হাজার ৭৬৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৫৩৯ জন, তাঁদের নিয়ে দেশে করোনা থেকে এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩৮ জন।
বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ করোনাকালের সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড হয় বাংলাদেশে। সেদিন একদিনে শনাক্ত হন পাঁচ হাজার ১৮১ জন। ৩০ মার্চ শনাক্ত হন পাঁচ হাজার ৪২ জন। ৩১ মার্চ শনাক্ত হন পাঁচ হাজার ৩৫৮ জন। করোনাকালে বাংলাদেশে এটাই ছিল একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। আজ সেই রেকর্ডও ভেঙে গেলো।
গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ, এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার ৮৮ দশমিক ২১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৪৭ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২৮ হাজার ১৯১টি, আর গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৮ হাজার ১৯৮টি। দেশে এখন পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হযেছে ৪৬ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭৪টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৮টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৮৬টি।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫৯ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৫ জন, আর নারী ২৪ জন। করোনাতে আক্রান্ত হয়ে দেশে এখন পর্যন্ত পুরুষ মারা গেলেন ছয় হাজার ৮৪৭ জন, আর নারী মারা গেলেন দুই হাজার ২৫৮ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ২০ শতাংশ এবং নারী ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।
মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ৩০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন ১৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে চার জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে আছেন একজন।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪০ জন, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাঁচ জন করে, রাজশাহী ও রংপুরের দুই জন করে, খুলনা বিভাগের চার জন এবং বরিশাল বিভাগের আছেন একজন।
মারা যাওয়া ৫৯ জনের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৫৭ জন, আর বাড়িতে মারা গেছেন দুই জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া দুই হাজার ৫৩৯ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন এক হাজার ৭৩৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৬৫২ জন, রংপুর বিভাগের ১৪ জন, খুলনা বিভাগের ৩৩ জন, বরিশাল বিভাগের ৯ জন, রাজশাহী বিভাগের ১৭ জন, সিলেট বিভাগের ৫৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন ২০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছে এক হাজার ৭৫০ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৮১৩ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ছয় লাখ ৫১ হাজার ৮৪০ জন, ছাড়া পেয়েছেন ছয় লাখ ১৩ হাজার ৬৬৫ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৮ হাজার ১৭৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৪১৪ জন, ছাড়া পেয়েছেন ১৭০ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ২৭৫ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৩০৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১১ হাজার ৯৬৭ জন।

No comments:
Post a Comment