প্রেস-বিজ্ঞপ্তি : দেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত ৯ জন সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। সংগঠন ছেড়ে আলোর পথে ফেরাদের মধ্যে জেএমবি’র ছয়জন এবং আনসার আল ইসলামের তিনজন সদস্য রয়েছে। এরমধ্যে ২ জন নারী এবং ৭ জন পুরুষ।
বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অতিথিরা।
আত্মসমর্পণ করা জঙ্গিরা হলেন- ডা. নুসরাত আলী জুহি (২৯), আবিদা জান্নাত আসমা ওরফে রামিসা (১৮), শাওন মুনতাহা ইবনে শওকত (৩৪), মোহাম্মদ হোসেন হাসান গাজী (২৩), মো. সাইফুল্লাহ (৩৭), মো. সাইফুল ইসলাম (৩১), মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (২৬) মো. সাইদুর রহমান (২২), আবদুর রহমান সোহেল (২৮)। এসময় স্বরাষ্টমন্ত্রী ও আইজিপি তাদের হাতে তুলে দেন।
জানা গেছে, শাওন সিলেটের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে হিযবুত তাহরিরে যুক্ত হন। ২০০৯ সালে তিনি আনসার আল ইসলামে যোগ দেন। ২০১১ সালে মেডিকেল শিক্ষার্থী নুসরাতকে বিয়ে করেন। নুসরাতও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন। পরে সংগঠনের নির্দেশনায় তাঁরা ঢাকায় চলে যান। জঙ্গিবাদে জড়ানোয় শাওন ও নুসরাতের সঙ্গে তাঁদের স্বজনদের দূরত্ব তৈরি হয় এবং সামাজিক-পারিবারিক জীবনে অশান্তি নেমে আসে।
তবে ধীরে ধীরে তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝতে পারেন এবং অবশেষে বৃহস্পতিবার র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা ‘আত্মসমর্পণ’ করেন।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয় না। জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। এটি মোকাবিলায় অনেক দূর এগিয়ে গেছি আমরা। আমরা যে সব সময় কঠোর হস্তে জঙ্গি দমন করি, বিষয়টি তেমন না। আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়েও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনছি।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো জঙ্গিদের সঠিক প্রক্রিয়ায় ডি-রেডিক্যালাইজেশনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ থেকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করেছেন তারা। দীর্ঘ সময় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের মাথা থেকে উগ্রবাদ ঝেড়ে ফেলা হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কার্যক্রম।
আত্মসমর্পণ করা আবিদা জান্নাত আসমা সর্ম্পকে র্যাব জানায়, উগ্রবাদে আকৃষ্ট হওয়ার পর বাবা-মাকে না জানিয়ে ২০১৮ সালে আনসার আল ইসলামের এক সদস্যকে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে বিয়ে করেন তিনি। শুরু হয় স্বামীর সঙ্গে আত্মগোপনের জীবন। আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সন্তান হওয়ায় সে আত্মগোপনে থেকে ফেরারি জীবনের প্রতি অতিষ্ট হয়ে সাংগঠনিকভাবে পরিচিত স্বজনের কাছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করে।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিশিষ্ট নাগরিকেরা অংশগ্রহণ করেন ।

No comments:
Post a Comment