স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যায় অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কানাইঘাটের যুবক রহিম উদ্দিনের সাহসিকতায় এসআই আকবরকে আটক করা হলেও পুলিশের দাবি কানাইঘাট থানা পুলিশের কৃতিত্বে না কি গ্রেফতার হয় আকবর। পুলিশের এমন বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে পাঠকমহলে।
রহিম উদ্দিন কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির দনা সীমান্ত এলাকার মৃত তরফ আলীর পুত্র। তার মাধ্যমে খাসিয়াদের সাথে আলোচনা করে আকবরকে দেশে আনা হয়। তাকে খাসিয়ারা খবর জানানোর পর সে তার সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সীমান্তের ওপারে গিয়ে খাসিয়া যুবকদের সাথে কথা বলে নিজের হাতে লাইলনের দড়ি দিয়ে আকবরকে বেঁধে দনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। পুরো প্রক্রিয়াটির একটি ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নেট দুনিয়ায় হৈ চৈ পরে যায়।
ভিডিও দেখে ও অনলাইন ভার্সনে খবর পড়ে বিপুল সংখ্যক জনতা আকবরের ফাঁসির দাবিতে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হন।
উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেণ এসপি ফরিদ উদ্দিন। পরে প্রেস ব্রিফিংএ আকবরকে গ্রেফতারে জেলা পুলিশের কৃতিত্বের কথা তোলে ধরেন।
এসআই আকবরকে জেলা পুলিশের গ্রেফতার করা নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তোলপাড় শুরু হয়। কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য করে অনেকে কমেন্টে পুলিশের বক্তব্যকে মিথ্যাচার বলছেন।
ওপরদিকে সাহসিক যুবক রহিম উদ্দিনকে বাহ্ বাহ্ দিয়ে তার সাহসিকতার তারিফ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী গোলাপগঞ্জের সন্তান সামাদ খাঁন ঘোষণা দিয়ে ছিলেন আকবরকে ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। অনেকে মনে করছেন সেই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য রহিম উদ্দিন।
সোমবার (০৯ নভেম্বর) সকালে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের দনা সীমান্ত এলাকা থেকে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। রাত পৌনে ৮টার দিকে তাকে পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছেন। তার আগে সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে কানাইঘাট থেকে সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।


No comments:
Post a Comment