জানাজায় নেতাকর্মীর ঢল, মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রা শায়িত এম এ হক - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Friday, 3 July 2020

জানাজায় নেতাকর্মীর ঢল, মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রা শায়িত এম এ হক

জানাজায় নেতাকর্মীর ঢল, মা-বাবা পাশে চিরনিদ্রা শায়িত এম এ হক
জ্যেষ্ঠ সংবাদদাতা : পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রা শায়িত হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ হক। দাফনের আগে মরহুমের প্রথম জানাজা শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় নগরীর মানিকপীর টিলা এলাকায় ও দ্বিতীয় জানাজা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গ্রামের বাড়ি বালাগঞ্জের কলুমা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম জানাজায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

দ্বিতীয় জানাজায় অংশগ্রহণ করেণ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও দেওয়ানবাজা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নাজমুল আলম, স্থানিয় এলাকাবাসী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও সতীর্থদের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতিতে রাত পৌনে ৮টায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এম এ হক শুক্রবার (০৩ জুলাই) সকাল ১০ টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান।

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পর সিলেট বিএনপির অভিভাবকতুল্য নেতাদের একজন ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুল হক (এম এ হক)। সিলেটে হক ভাই নামে সমধিক পরিচিত তিনি। সেই হক ভাইকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান সিলেট বিএনপি।

সিলেট বিএনপির এ বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতাল, নগরীর যতরপুরের বাসায় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এম এ হককে হারিয়ে সিলেট বিএনপির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা ছিলেন তিনি। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, বিগত দিনে রাজপথে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন এম এ হক। তিনি খুব শান্তশিষ্ট মানুষ ছিলেন। তার চলে যাওয়া বিএনপির রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান বলেন, বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা এম এ হকের মৃত্যুতে সিলেট বিএনপি পরিবার হারিয়েছে একজন দল প্রেমিক নিবেদিত নেতাকে। দেশ এবং দলের এই দুঃসময়ে এম এ হকের মৃত্যুতে সিলেট বিএনপি পরিবারের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়।

এম এ হকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন :
১৯৫৪ সালের ১ জুলাই সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজারের কুলুমাগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জড়িত তিনি। ১৯৯৩ সালে তিনি বিএনপির সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। টানা এক যুগ তিনি সভাপতি হিসেবে সিলেট বিএনপিকে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ওই বছর তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। ২০০৩ ও ২০০৮ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়েন তিনি।

সর্বশেষ ২০১২ সালে সিলেট মহানগর বিএনপির কোন্দল নিরসনে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাকে দায়িত্ব দেন। সেসময় মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও বর্তায় তার কাঁধে। আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে রাখা হয়েছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

সব সময় তিনি রাজনীতির পাশাপাশি হক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও মানুষের সেবা করে গেছেন।



No comments:

Post a Comment

Pages