সময় ডেস্ক : বৃহত্তর সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এগিয়ে আসলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি। মন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় আখাউড়া-সিলেট মিটারগেজ রেলপথ থেকে ডুয়েলগেজ করার প্রকল্পটি অবশেষে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এর কাজ শুরু হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো: আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়ন হলে এই লাইনে দুর্ঘটনা এবং যাত্রার সময় অনেক কমে আসবে। বৃহত্তর সিলেটের মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, আখাউড়া-সিলেট এই রুটে রেলওয়ের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বারবার দুর্ঘটনা এবং সেতু ভাঙ্গন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই প্রকল্পটি চূড়ান্ত করে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য সুপারিশ করছি।
ডিও লেটারে ড. এ কে আবদুল মোমেন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, চা-শিল্পের জন্য বিখ্যাত সিলেট শহরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ব্যবসায়ী, পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আসেন। যার কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও রেলপথে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। সম্প্রতি এ মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শাহবাজপুর সেতু ভেঙে গেলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প পথে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এ কারণে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভেঙে যাওয়া এ সেতু মেরামতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে ঢাকা-সিলেট রুটে যাত্রী সমস্যা লাঘবে আরও একটি ট্রেন চালু ও রেললাইনের উন্নয়নের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কেও একটি ডিও লেটার পাঠান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পত্রে রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিলেট-ঢাকা রুটে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আরও একটি ট্রেন চালুর অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি সিলেটের রেলপথ উন্নত ও নতুন ট্রেন চালু করতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে দুই দফা ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) দেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এ উদাসীনতার কারণে ২০১৯ সালের ২৩ জুন রোববার রাতে সিলেট-ঢাকা রেলপথের বরমচাল রেলসেতু ভেঙে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের কয়েকটি বগি খালে পড়ে চারজন নিহত ও দেড় শতাধিক যাত্রী আহত হন।
এর আগে গত ১৮ জুন মঙ্গলবার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় শাবাজপুর সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ায় এক সপ্তাহ ধরে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। এবার রেলের সেতুও ভেঙে পড়ায় রেল ও পরিবহন যোগাযোগের দিকে রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সিলেট।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন দায়িত্ব নেয়ার পর পরই গত ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রথম সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বরাবর ডিও লেটার দিয়েছিলেন। এতে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ছয় লেনে উন্নীত করা ও সিলেট-ঢাকা এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের সংস্কার, উন্নয়ন ও নতুন রেল দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
সর্বশেষ গত ২০১৯ সালের ২৩ জুন রেল যোগাযোগের অবস্থা করুণ জানিয়ে দ্বিতীয় দফায় সংশ্লিষ্ট এ দুই মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ দিন রাতেই সিলেট রেলপথে ঘটল ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা।

No comments:
Post a Comment