খেলাধুলা
ডেস্ক : টেস্ট
দলে মুশফিক,
তাসকিন, নতুন
মুখ ইয়াসির
আলী-হাসান
মাহমুদের স্থান
হলেও জায়গা
হয়নি মাহমুদউল্লাহ। বেশ
ক’দিন
ধরেই বাতাসে
ভেসে বেড়ানো
গুঞ্জনই সত্যি
হলো।
পাকিস্তান সফরে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে দায়িত্বহীন
ব্যাটিংয়ে কাটা পড়লেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আবার
সেই সফরেই
পারিবারিক কারণ দেখিয়ে না যাওয়া
মুশফিকুর রহিম
ফিরলেন টেস্ট
দলে!
বাজে
ফর্মের কারণে
টেস্ট থেকে
দূরে রাখা
হয়েছিল মুস্তাফিজুর
রহমানকে।
দলে বার
বার বদলের
সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসে এই
পেসারকেও ফেরানো
হয়েছে সাদা
পোষাকে।
আর পাকিস্তানে
বোলিংয়ে ধার
না থাকায়
এক ম্যাচ
পরই বাদ
দেওয়া হয়েছে
রুবেল হোসেনকে। বিসিএলে
দারুণ বোলিংয়ে
পুরস্কার পেয়ে
২৮ মাস
পর দলে
ফিরেছেন তাসকিন
আহমেদও।
এমনই ৬টি
পরিবর্তন নিয়ে
গতকাল জিম্বাবুয়ে
সিরিজের একমাত্র
টেস্টের জন্য
দল ঘোষনা
করেছে বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ড
(বিসিবি)।
ছিলেন
দারুন ফর্মে। সবশেষ
বঙ্গবন্ধু প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দ্বিতীয়
সর্বাধিক রান
এসেছে মুশফিকের
ব্যাট থেকেই। সর্বশেষ
ভারত সফরে
দুই টেস্টেই
ব্যাট কথা
বলেছে এই
অভিজ্ঞ মিডল
অর্ডারের।
ইন্দোর টেস্টে
৪৩ ও
৬৪, কলকাতায়
৭৪ রানের
তিনটি ইনিংসে
ছন্দে থাকা
মুশফিক নিরাপত্তা
শঙ্কায় পরিবারের
আপত্তিতে পাকিস্তান
সফর থেকে
নাম প্রত্যাহার
করে নিয়েছিলেন। তার
অনুপস্থিতির বিরূপ প্রভাব পড়েছে পাকিস্তান
সফরে তিন
ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে।
সর্বশেষ
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টেও বাংলাদেশ দলের হতাশার
কারন মুশফিকের
অনুপস্থিতি। তবে এ নিয়ে
অবশ্য মুশফিক
বিসিবির বিরাগভাজন
হননি।
আগামী ২২
থেকে ২৬
ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় একমাত্র
টেস্টে ফিরেছেন
এই উইকেটরক্ষক
ব্যাটসম্যান। শুধু মুশফিকই নন,
ইনজুরির কারনে
পাকিস্তান সফর মিস করা অফ
স্পিনার মেহেদী
হাসান মিরাজকেও
আসন্ন টেস্টে
ফিরিয়ে এনেছে
বিসিবি।
গত
বছরের মার্চে
ওয়েলিংটন টেস্ট
খেলে টেস্টে
একটা দীর্ঘ
বিরতি হয়েছে
মুস্তাফিজের। টেস্ট স্কোয়াডে থেকেও
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একাদশে রাখা হয়নি
তাকে।
ভারত সফরে
২ টেস্টে
বাঁহাতি কাটার
মাস্টার ছিলেন
দর্শকের কাতারে। রাওয়ালিপিন্ডি
টেস্টের স্কোয়াডেই
রাখা হয়নি
তাকে।
সিলেটে বিসিএলের
দ্বিতীয় রাউন্ডে
নর্থ জোনের
বিপক্ষে চেনা
ফিজকে দেখে
(৪/৬৪
ও ২/৫৪) টেস্ট
স্কোয়াডে ফিরিয়ে
আনা হয়েছে।
বিসিএলে
আগুণে বোলিংয়ে
কপাল খুলেছে
তাসকিনেরও।
২০১৮ সালের
মার্চের পর
ইনজুরি এবং
অফ ফর্মের
কারনে আন্তর্জাতিক
ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন এই পেসার। ২০১৭
সালের সেপ্টেম্বরে
দক্ষিণ আফ্রিকা
সফরের পর
টেস্টের বাইরে
ছিলেন ২৮
মাস।
বিপিএলে যে
ক’টি
ম্যাচ খেলেছেন,
তাতেই ধারাবাহিক
পারফরমেন্সে এসেছেন নির্বাচকদের নজরে।
বিসিএলের দ্বিতীয়
রাউন্ডে সিলেটে
করেছেন দারুন
বোলিং (৫/৫৪ ও ২/৮১)। তাতেই
টেস্ট স্কোয়াডে
ফিরেছেন এই
গতিতারকা।
বিপিএলে
ঢাকা প্লাটুনের
হয়ে দ‚র্দান্ত বোলিংয়ে
পেস বোলার
হাসান মাহামুদ
এসেছেন নজরে। বিসিএলেও
তার বোলিং
ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। ২০
বছর বয়সী
লক্ষীপুরের এই ছেলেটিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে
আসন্ন টেস্ট
স্কোয়াডে নতুন
মুখ।
দীর্ঘদিন ধরে
ঘরোয়া ক্রিকেট
এবং প্রথম
শ্রেনীর ক্রিকেটে
পারমরমেন্সের ধারাবাহিকতায় ইয়াসির আলীর দিকে
এমনিতেই ছিল
নজর।
বিসিএলের চলমান
তৃতীয় রাউন্ডে
কক্সবাজারে ইস্ট জোনের হয়ে নর্থ
জোনের বিপক্ষে
গতপরশু করা
সেঞ্চুরিতে (১৬৫) প্রথমবারের মতো টেস্ট
স্কোয়াডে পেয়েছেন
জায়গা।
আগাম
শ্রƒতি
থাকার পরও
দলে ফেরার
চাইতে বাদ
পড়াদের তালিকায়
থাকা মাহমুদউল্লাহর
নামটিই প্রশ্ন
জাগিয়েছে মোটা
দাগে।
এমন ইঙ্গিত
কদিন আগেই
সংবাদ সম্মেলনে
দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ রাসেল
ডোমিঙ্গো।
এমনকি তাকে
টেস্ট ক্রিকেট
থেকে অবসর
নেওয়ার পরামর্শও
দিয়েছিলেন কোচ। তাতে এটা
পরিষ্কার হয়ে
যায় যে
ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণে কোচের পরিকল্পনায়
নেই মাহমুদউল্লাহ। অথচ
প্রধান নির্বাচক
মিনহাজুল আবেদিন
বললেন ভিন্ন
কথা।
বেশ জোর
দিয়ে জানালেন,
বিশ্রাম দেওয়া
হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে। আবার
পরক্ষণেই বললেন,
বিশ্রামে থাকলেও
অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান
খেলবেন বিসিএলে।
মিরপুর
শের-ই-বাংলা জাতীয়
ক্রিকেট স্টেডিয়ামে
দল ঘোষণার
পর তাই
মাহমুদউল্লাহ না থাকার ব্যাখ্যাই দিতে
হলো মিনহাজুলকে,
‘আমরা ওকে
(রিয়াদ) এই
সিরিজ থেকে
বিশ্রাম দিয়েছি। ঘরের
মাটিতে খেলা। তাই
নতুন কিছু
খেলোয়াড়কে আমরা যাচাই করতে চাই।’ দেশের
একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক
প্রথম শ্রেণির
আসর বিসিএল
চলছে।
সেখানে মাহমুদউল্লাহ
খেলবেন কি-না জানতে
চাইলে প্রধান
নির্বাচক বলেন,
‘অবশ্যই, বিসিএলে
খেলার জন্য
সে থাকছে।’ যুক্তি
যদি এটাই
হয়, তাতেই
প্রশ্নটা উঠে
আসে, আসলেই
কি বিশ্রামে
মাহমুদউল্লাহ? যদি তেমনটা হয়, তাহলে
ঘরোয়া ক্রিকেটে
কেন খেলবেন?
তার মতো
সিনিয়র খেলোয়াড়
যদি মাঠে
নামবেনই, তাহলে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেন নয়?
তবে
ম‚ল
কথা, পাকিস্তানে
সবশেষ রাওয়ালপিন্ডি
টেস্টে নাসিম
শাহর হ্যাটট্রিক
বলে যেভাবে
উদ্ভটভাবে আউট হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ, তাতে
এ সংস্করণে
তার মনোযোগের
অভাব দেখা
দিয়েছে স্পষ্টভাবে। এটা
চোখ এড়ায়নি
কোচ, নির্বাচক
থেকে টিম
ম্যানেজমেন্টের কারোরই। আপাতত টেস্টে
তাকে বিবেচনা
করতে চাইছেন
না তারা। তাই
ঘরোয়া ক্রিকেটে
নিজেকে প্রমাণ
করে আবারও
জাতীয় দলে
সাদা পোশাকে
ফেরার জন্যই
বিসিএলে খেলছেন
মাহমুদউল্লাহ।
এর
আগেও বিশ্রামের
অজুহাতে বাদ
দেওয়া হয়েছিল
মাহমুদউল্লাহকে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ২০১৭
সালে বাংলাদেশের
শততম টেস্টের
আগে হুট
করেই তাকে
বাদ দেওয়া
হয়।
এরপর আবার
অধিনায়ক করেও
ফেরানো হয়। এখন
দেখার বিষয়,
শেষ পর্যন্ত
কত দিন
বিশ্রামে থাকেন
মাহমুদউল্লাহ।
টেস্ট
দল
মুমিনুল
হক (অধিনায়ক),
তামিম ইকবাল,
সাইফ হাসান,
নাজমুল হোসেন
শান্ত, মুশফিকুর
রহিম, মোহাম্মদ
মিঠুন, লিটন
দাস, তাইজুল
ইসলাম, আবু
জায়েদ রাহী,
নাঈম হাসান,
এবাদত হোসেন,
তাসকিন আহমেদ,
মেহেদী হাসান
মিরাজ, মুস্তাফিজুর
রহমান, হাসান
মাহমুদ ও
ইয়াসির আলী
চৌধুরী

No comments:
Post a Comment