সময় ডেস্ক : : নেপালের তিমুরে গ্রামে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থাকার পর ছয় বছরের এক শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রসুয়া জেলার ওই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শিশুটিকে বের করে আনা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ভোতে কোশি নদীর উপচে পড়া পানিতে কাদা ও পাথরের ঢল নেমে রসুয়া জেলার তিমুরেসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু বাড়িঘর মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ হন।
দুর্গত এলাকায় তল্লাশি অভিযানের সময় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস ধরে দ্রুত হাত ও বেলচা দিয়ে খননকাজ শুরু করেন তারা। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর কাদামাটি ও প্রকাণ্ড পাথর সরিয়ে জীবিত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পরপরই তিমুরে অবস্থিত এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার ঝুঁকি বিবেচনায় কাঠমান্ডুতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।
শুক্রবার রাতে প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র কুয়াশার কারণে আকাশপথে নেওয়া সম্ভব না হলেও শনিবার দুপুরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
কাদার ভেতর থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ধারকর্মীদের সাহসিকতা ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন বহু মানুষ। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে শিশুটির মা-বাবা বা নিকটাত্মীয়দের কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল তার স্বজনদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment