সময় ডেস্ক : ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে হামজা চৌধুরীর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর তিন গোল হজম। শেষ দিকে আশা দেখালেন শেখ মোরছালিন। শোমিত সোমের যোগ করা সময়ের গোলে জাগল এক পয়েন্টের আশা। কিন্তু হলো না শেষ রক্ষা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল খেয়ে হংকং চায়নার বিপক্ষে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ।
জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ৩-৪ গোলে হেরে গেছে স্বাগতিকরা। বিজয়ী দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন রাফায়েল মারকিস।
অধিকাংশ সময় আধিপত্য ধরে রেখেই খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রক্ষণ দূর্বলতায় গোল হজমের পর বিরতি থেকে ফিরে সেই খেই হারানো ফুটবলই খেলতে থাকে দল। হজম করে আরও দুই গোল। সম্ভাবনা প্রদীপ যখন নিভু নিভু। তখনই আশার আলো দেখান মোরছালিন। শেষ দিকে নাটকীয়তার নানা বাঁক পেরিয়ে সাত গোলের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হেরেই যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
হংকংয়ের বিপক্ষে জয়টা এবারও তাই অধরাই থেকে গেল। এ নিয়ে দুই দলের পাঁচ সাক্ষাতে চারবারই হারল বাংলাদেশ, অন্যটি ড্র। ১৯ বছর আগে সবশেষ ম্যাচে এশিয়ান কাপের বাছাইয়েই হয়েছিল গোলশুন্য সেই ড্র।
চলতি বাছাইয়ে এখনও জয়হীন বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরুর পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ২-১ গোলে হার। এবারের হারটি টানা দ্বিতীয়।
তিন ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে বাংলাদেশ। ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে হংকং, দ্বিতীয় স্থানে সিঙ্গাপুরের পয়েন্ট ৫। ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ভারত।
বাকি আছে আর তিন ম্যাচ। গ্রুপ সেরা হয়ে মূল পর্বে যাওয়ার আশা টিকে আছে স্রেফ কাগজে-কলমে। মূল পর্বে খেলার আশা কার্যত শেষ হাভিয়ের কাবরেরার দলের।
শোমিত সোম, জামাল ভূঁইয়া, ফাহামিদুল ইসলামদের বেঞ্চে রেখে ম্যাচের একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ কাবরেরা। এরপরও ম্যাচে বল দখল ও প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়ানোয় এড়িয়ে ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু হাস্যকর সব ভুলে হয়নি শেষ রক্ষা।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে কোনাকুনি ফ্রি কিক শট সরাসরি জালে নিয়েছিলেন হামজা। বল হংকংয়ের এক ডিফেন্ডারের মাথা ছুঁয়ে চোখের পলকে জালে জড়ায়। উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটো স্টেডিয়াম। বাংলাদেশের হয়ে হামজার দ্বিতীয় গোল এটি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কর্নার পায় হংকং। ডি বক্সে জটলার মধ্যে বল বিপদমুক্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ। একের পর এক হেডে বল ঘুরেছে ডি বক্সেই। গোলরক্ষক বেরিয়ে এসে বল নিয়ন্ত্রণে না নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন জায়গায়। শেষ পর্যন্ত কাছ থেকে টোকায় সমতা টানেন এভারটন কামারগো।
হাস্যকর গোল হজম করে ক্ষোভ উগরে দেন হামজা। বল কুড়িয়ে স্বজোরে মেরে পাঠিয়ে দেন মাঝমাঠে। এরপরই বাজে বিরতির বাঁশি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৫০তম মিনিটে সোহেল রানা জুনিয়র বক্সের বাইরে থেকে ব্যাক পাস দেন গোলরক্ষক মিতুলের উদ্দেশে। পাসে ছিল না গতি। ছুটে এসে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মিতুলকে পরাস্ত করলেন বদলি ফরোয়ার্ড রাফায়েল।
৭ মিনিট পর একসঙ্গে তিনটি বদল আনেন বাংলাদেশ কোচ। মাঠে নামেন শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়া ও ফাহামিদুল ইসলাম। তুলে নেওয়া হয় দুই সোহেল রানা ও ফয়সাল আহমেদকে।
৭৪তম মিনিটে তৃতীয় গোলটি হজম করে বাংলাদেশ। এই গোলেও রক্ষণের দূর্বলতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সাদ উদ্দিনের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে ডান প্রান্ত থেকে গোলমুখে বল বাড়ান এভারতন। টোকায় নিজের বাকি কাজ সারেন রাফায়েল।
এরপরই বাংলাদেশের হয়ে অভিষিক্ত হন জায়ান আহমেদ। তাজ উদ্দিনকে তুলে যুক্তরাষ্ট্র প্রাবাসী এই ডিফেন্ডারকে নামান কোচ।
৮৩তম মিনিটে ব্যবধান কমায় বাংলাদেশ। এতে হংকংয়ের গোলরক্ষকের দায়ও কম নয়। উচু হয়ে আসা বল গ্রিপ করতে পারেননি তিনি। বল হাত হাতের ফাঁক গলে পড়ে যায়। কাছেই ছিলেন শেখ মোরছালিন। বাম পায়ের টোকায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
এই গোল যেন নতুন উদ্দোম দেয় দলকে। চাপ ধরে রাখে তারা। সফলতাও পেয়ে যায় ম্যাচের যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে। কর্নার কিকে হেডে কাছ থেকে সমতা টচানেন শোমিত।
সমতায় ফেরার উৎসবে গ্যালারি যখন উত্তাল তখনই হঠাৎ সবকিছু স্তব্ধ করেন দেন রাফায়েল। ডি বক্সে জটলার মধ্যে বল পেয়ে হংকংকে উৎসবের উপলক্ষ্য এনে দেন তিনি। এই গোলের পরই শেষ বাঁশি বাজার রেফারি।
সঙ্গে সঙ্গে হতাশায় বসে পড়েন হামজা। তার সাথে হতাশায় নুইয়ে পড়ে যেন পুরো গ্যালারি।

No comments:
Post a Comment