সিলেটে টিলা ধসে এক পরিবারের ৪জন নিহত - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Sunday, 1 June 2025

সিলেটে টিলা ধসে এক পরিবারের ৪জন নিহত


সময় ডেস্ক : সিলেটের কয়েকদিনে টানা ভারী বর্ষণে গোলাপগঞ্জে টিলা ধসে পড়লো ঘরের ওপর। এতে একই পরিবারের চারজন মাটিচাপা পড়েছেন। ২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও মাটিচাপা থেকে তাদের উদ্ধার করা যায়নি। 


রোববার (০১ জুন) ভোররাত পৌনে ৩ টার দিকে উপজেলার ৭ নং লক্ষনাবন্দ  ইউনিয়নের বখতিয়ার ঘাট গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। ভোররাত সোয়া ৪টা পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা যায়নি।


স্থানীয়রা জানান, বখতিয়ারঘাট গ্রামের বাসিন্দা মো. ইয়াজ উদ্দিন স্বপরিবারে আধাপাকা ঘরে স্বপরিবারে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাতে হঠাৎ টিলা ধরে ঘরের উপর পড়ে তারা মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু তারা মাটিচাপা পড়া পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ইয়াজ উদ্দিন ছাড়াও মাটিচাপা পড়েছেন তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে।


লক্ষনাবন্দ  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খলকু জানান, আমাদের ইউনিয়নবাসীর জন্য একটি দুঃখের রাত। গ্রামের ইয়াজ উদ্দিন স্বপরিবারে মাটিচাপা পড়েছেন। তারা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলেও রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।


সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্লা  বলেন, রাত ১টা থেকে ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ঝড়ে রাস্তায়ঘাটে জলাবদ্ধতা ও গাছ পড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে ঘটনাস্থলে বিকল্প রাস্তা হয়ে অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে।


ফায়ার সার্ভিস সিলেট তালতলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা গেছে, খবর পেয়ে ভোররাত ৪ টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট স্টেশন অফিসার টিটক শিকদারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে পৌছেছে।


তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ২ ঘন্টা ধরে খবর দিচ্ছি প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কোনো সংস্থাই আসতেছে না। তারা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছিলেন। ৩ জনের মাথা বের করার চেষ্টাকালে আবারো টিলা ধসে ঘরের উপর পড়ে ঘরটি সামনের দিকে হেলে পড়েছে। তাছাড়া ভারি বর্ষণও চলছে। যে কারণে ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার কাজ চালাতে পারেননি।


ভোর ৪ টা ৫৫ মিনিটের দিকে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার টিটক শিকদার বাংলানিউজকে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পাশাপাশি চলে গেছি। কিন্তু ঝড়ে অনেক বড় গাছ ভেঙে পড়ে রাস্তা বন্ধ রয়েছে। তাই গাছটি সরিয়ে যেতে একটু সময় লাগতেছে।


একই রাতে উপজেলার চৌধুরীবাজার ও বিয়ানীবাজার এলাকায়ও টিলা ধসের খবর পাওয়া গেছে। তবে ওই দু’টি স্থানে কেউ হতাহত হননি।


No comments:

Post a Comment

Pages