টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নগরীর কয়েকটি প্রধান সড়কসহ বেশ কিছু সড়কে পানি হাঁটু পানি রয়েছে। জলাবদ্ধতার পানির মধ্যে চলাচল করছে যানবাহন। তবে ছোটছোট যানবাহন যেমন- সিএনজি অটোরিকশা, টেম্পো, টমটম, ব্যাটারি চালিত রিকসা ও প্রাইভেট কার পানিতে আটকা পড়ছে।
দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবসার কারনে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী না নামার করনে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পানি বাসাবাড়ি, দোকানপাট, হাসপাতাল, অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে আগামী কয়েকদিন মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার মত বন্যার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।
শনিবার দুপুরের পর টানা ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা এলাকা। কোরবানি ঈদের পূর্ব মুহূর্তে যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম থাকে ফুটপাত ও বিপণি বিতানগুলো সেখানে অতি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে নগরীতে দেখা যায়নি।
জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে নগরীর হাওয়াপাড়া, রিকাবীবাজার, আম্বরখানা, ইলেক্টিকসাপ্লাই, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল সড়ক, বাগবাড়ী, উত্তর বাগবাড়ী, মিরাবাজার, মহাজনপট্টি, কালিঘাট, কাষ্টঘর, উপশহর, মেন্দিভাগ, সোবহানীঘাট, বিমানবন্দর, চৌকিদেখী, শাহপরাণ, কাজিরবাজার, তালতলা, জামতলা, মাছিমপুর, দক্ষিণ সুরমার নছিবা খাতুন স্কুল সড়ক, মোমিনখলা, কদমতলী ইত্যাদি এলাকা। এছাড়াও গোয়াইনঘাটসহ তিনটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপশহরের বাসিন্দা সোলাইমান রহমান বলেন, টানা বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট-বাসাবাড়ি। তখন জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে নানা প্লান হয়, তার পর কাজের কাজ আর কিছুই হয় না। নদী খনন, ছড়া-খাল-ড্রেনের উন্নমন হবে; এসব আশার বাণী কাগজে-কলমে, বাস্তবে নয়। আল্লাহ ছাড়া পানিবন্দী মানুষের দুঃখ লাগবে কেউ নেউ বলে তিনি জানান।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) সিলেটে ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরপর সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আরও ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, সুরমা, কুশিয়ারাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বাড়ছে। সারি-গোয়াইন ও ধলাই নদের পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ৪১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটাই সতর্কবার্তা। ভারতে বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢল সীমান্তের নদ-নদী দিয়ে সিলেটে আসে।
অন্যদিকে অতিবৃষ্টির কারণে সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
এক অফিস আদেশে সিটি করপোরেশনের সচিব আশিক নূর জানিয়েছেন, দ্বিতীয় তলার ২০৫ নম্বর কক্ষে চালু হওয়া কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে আছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আকবর (মুঠোফোন- ০১৭১১৯০৬৬৪৭)। জলাবদ্ধতা নিরসনে সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। শুকনা খাবার, চালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোববার গু খাদ্যের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে। এখনো কোনো উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। গোয়াইনঘাট-রাধানগর সড়ক (সামারছিবল) সড়ক পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মূল সড়ক যোগাযোগ সচল আছে বলে তিনি জানান।



No comments:
Post a Comment