বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সময় কিংবা নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের দুটি অপশন দেওয়া হয়। বিআরটিএ অফিস থেকে সরাসরি সংগ্রহ অথবা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি নেয়ার। যেসব গ্রাহক পোস্ট অফিসের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি নিয়েছেন তারা অনেকে ভোগান্তিতে পড়ছেন এমন অভিযোগ গ্রাহকদের।
ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট হয়ে যাওয়ার পরও পোস্ট অফিসের ডাক পিয়নের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনে মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও মিলছেনা কারো দেখা। অথচ বাড়িতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পৌঁছে দেয়ায় খরচ বাবদ দূরত্ব ভেধে গ্রাহকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা সার্ভিস দেয়ার আগে নেয় ডাক বিভাগ। ১ থেকে সর্বোচ্চ দেড় মাসের মধ্যে স্মার্ট কার্ডটি গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছার কথা থাকলেও অধিকাংশ সময় মসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও ডেলিভারি দিচ্ছেনা পোস্ট অফিস।
সিলেট বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স হোম ডেলিভারির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হাওয়ার কথা না। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে গ্রাহকের ঠিকানায় লাইসেন্স পৌঁছে দেয়ার জন্য ডাক বিভাগকে নির্দেশনা দিয়ে রাখা হয়েছে। সে লক্ষে বিআরটিএ এবং ডাক বিভাগের মধ্যে চুক্তি রয়েছে।
ভোগান্তির শিকার দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়নের ধরাধরপুরের বাসিন্দা ফয়সল আহমদ দৈনিক সিলেট বাণীকে বলেন, আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করে যাবতীয় খরচ বিকাশে পরিশোধ করি। হোম ডেলিভারির ফি বাবত ৬০টাকা নিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সেবা দেয়নি। কয়েক মাস অপেক্ষা করে সিলেট বিআরটিএ অফিসে নিজে গিয়ে স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে আসি। কষ্ট না করতে হোম ডেলিভারি অপশন বেচে নিয়েছিলাম। সরকারি সেবার মান যে খারাপ তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। দ্রুত এবং সহজভাবে লাইসেন্স হোম ডেলিভারি দেয়ার সত্যিকার ইচ্ছা থাকলে কোনো বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসকে যুক্ত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহবান জানান।
বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক (ইঞ্চিনিয়ার) আবু আশরাফ সিদ্দিকী সিলেট বাণীকে বলেন, পোস্ট অফিস গ্রাহকের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ নিয়ে সেবা না দেয়ায় প্রভাব পরছে বিআরটিএর ওপর। তারা লাইসেন্স বিলি না করে রেখে দেয়ায় সেটা ঘুরে বিআরটিএতে আবার আসছে। গ্রাহক বিআরটিএ থেকে তা গ্রহণ করছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ৬০ টাকা কেন নিল পোস্ট অফিস। ডাকঘরের বড় কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব রয়েছে। নিয়মিত তদারকি করলে গ্রাহক ঘরে বসে লাইসেন্স পাবে বলে তিনি মত দেন।
সিলেটের প্রধান ডাকঘরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার সুজিত চক্রবর্তী বলেন, লোকবল কম নিয়ে পোস্ট অফিস কাজ করে যাচ্ছে, কোথাও গাফলতি হতে পারে। গ্রাহকের সেবা প্রাপ্তিতে এখন থেকে কঠোর নজরদারী করা হবে বলে তিনি জানান।

No comments:
Post a Comment