শিবিরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Thursday, 20 February 2025

শিবিরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ


সময় ডেস্ক :
সিলেট মুরারিচাদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে মিজানুর রহমান রিয়াদ নামে এক ছাত্রকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে। কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে মন্তব্য করা নিয়ে তার ওপর এ হামলা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।


এ ঘটনার পর থেকে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। ঘটনা খতিয়ে দেখতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। 


বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান রিয়াদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আহত রিয়াদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি ছাত্রাবাসের ১নং ব্লকের ১০১নং কক্ষের থাকতেন। এমসি কলেজ শাখার বাংলাদেশ আঞ্জুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার সহ-তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। জুলাই বিপ্লবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দেলনের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন রিয়াদ।  


আহত রিয়াদ অভিযোগ করে জানান, রাতের খাবার শেষে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় দরজায় প্রচণ্ড আঘাতের শব্দ পান। তার রুমমেট বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র জুনেদ আহমদ দরজা খুলতেই এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জওহর লুকমান মুন্নার নেতৃত্বে ১০-১২ জন ছাত্র ভেতরে প্রবেশ করেন ও লাথি মেরে রিয়াদকে বিছানা থেকে ফেলে দেন। এসময় তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কুয়েটের ঘটনায় তুই শিবিরকে নিয়ে কী লিখেছিস?’ জবাবের অপেক্ষা না করেই রিয়াদকে লাথি-ঘুষি মারতে থাকেন তারা। এক পর্যায়ে পাশের রুম থেকে রড আনেন শিবিরকর্মী নাজমুল ও সালমান। রিয়াদের রুমমেট জুনেদ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এরপর দরজা লাগিয়ে রিয়াদকে রড দিয়ে বেধড়ক পেটান তারা।  


রিয়াদ জানান, এক পর্যায়ে শিবিরের কর্মী আদনান বলেন, ‘তুই পরে যে অপবাদ দিবি দিস, আগে সেটি করে নিই। ’ এই বলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ের রগ কাটার চেষ্টা করেন তারা। এসময় রুমের বাইরে থাকা রিয়াদের রুমমেট জুনেদ চিৎকার করলে ছাত্রাবাসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও কর্মচারী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় রিয়াদকে রুমের বাইরে টেনে বের করে ফেলে চলে যান।


পরে আহত রিয়াদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


জানা গেছে, কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় মিজানুর রহমান রিয়াদ ফেসবুকে শেয়ার করা একটি সংবাদের নিচে কমেন্ট করেন- ‘কীসের জন্য এত ত্যাগ করলাম। দিনের বেলা পুলিশের টিয়ারশেল আর লাটিচার্জ, রাতে পালিয়ে থাকলাম। সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসের স্বপ্নে এত ছাত্র প্রাণ দিল। এখন যদি গুপ্ত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বসেন, তাহলে এই ত্যাগের মূল্য কী?’ 


এই কমেন্টের জেরে রিয়াদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সিলেট শাহপরাণ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফেসবুকে লেখার জের ধরে এমসি কলেজে হামলার এই ঘটনাটি ঘটেছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে, সে বিষয় নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আহতের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   


তবে এমসি কলেজছাত্রকে মারধরে ছাত্রশিবির জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি শাহিন আহমদ।  


তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এটা দুজনের মধ্যে মারামারির ঘটনা, অথচ ছাত্রশিবিরকে দায় দেওয়া হচ্ছে। কেবল এই ঘটনাই নয়। দেশের কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে ছাত্রশিবিরকে দায়ী করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারো চাপে ছাত্রশিবিরের নাম বলছেন আহত ছাত্র। যদি ছাত্রশিবিরের কেউ জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে সিলেট এমসি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল আনাম মো. রিয়াজ বলেন, মারধরের ঘটনার পর ছাত্রাবাস ও হাসপাতালে গিয়ে আহত ছাত্রের খোঁজ নিয়েছি। তাকে কিলঘুষি মারা হয়েছে। পায়ে কাটা আঘাতের চিহ্ন আছে। অবশ্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সে অতটা গুরুতর আহত না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- হোস্টেল সুপার জীবন কৃষ্ণ, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান কবীর, ৪র্থ হোস্টেলের সুপার মাহবুবুর রহমান ও ১ম ব্লকের সুপার মুসলেহ উদ্দিন।


ওই কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ। 


এদিকে, মিজানুর রহমান রিয়াদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার সিলেটের নেতৃবৃন্দ। তারা মিছিল পরবর্তী প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্যে রিয়াদকে যারা মারধর করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


No comments:

Post a Comment

Pages