আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপি নেতার মৃত্যু, ১৫ গাড়ী ভাংচুর - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Friday, 13 September 2024

আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপি নেতার মৃত্যু, ১৫ গাড়ী ভাংচুর


সময় ডেস্ক :
গোপালগঞ্জে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের গাড়ীবহরে আওয়ামী লীগের হামলায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শওকত হোসেন দিদার (৩৮) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এস এম জিলানীসহ আরো অন্তত ৩০ জন। এসময় অন্তত ১৫টি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ভাংচুর করা হয়েছে। গুরুতর আহতদেরকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। গাড়িবহরে থাকা নেতাকর্মীরা হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের বেগগ্রাম এলাকায় জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামানের সভাপতিত্বে পথসভা শেষ করে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এস এম জিলানী, বিএনপি’র ঢাকা বিভাগীয় সহ-সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গাড়ীবহর নিয়ে সেখান থেকে রওনা হন টুঙ্গীপাড়ার উদ্দেশ্যে।



পথে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাড়িবহরে হামলা চালায়। এসময় অন্তত ১৫টি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং বিএনপি’র নেতৃবৃন্দসহ গাড়ীবহরের স্থানীয় নেতাকর্মীদেরকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে।


এসময় এস এম জিলানী, তার স্ত্রী রওশন আরা রত্না ও সেলিমুজ্জামান সেলিমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অন্তত ৩০ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। এসময় আহত হন সময় টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান এইচ এম মানিক। এরইমধ্যে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি। টানা ঝড়বৃষ্টির কারণে একপর্যায়ে সংঘর্ষ থেমে যায়। পরে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দোলা পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শওকত হোসেন দিদারের (৩৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান শওকত হোসেন দিদারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এদিকে, আহত অবস্থায় এস এম জিলানী ও সেলিমুজ্জামান সেলিম সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাসানুল বান্না, যুবদল নেতা রাজীব বিশ্বাস, ছাত্রদল নেতা ইমরুল মিয়া ও শ্রমিকদল নেতা মো. আব্দুল্লাহ শেখসহ বেশ কয়েকজনকে গোপালগঞ্জ ২৫০শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীরা শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।


এদিন দুপুরে এস এম জিলানী ও সেলিমুজ্জামান সেলিমসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ আসার পথে মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক পথসভা করে। পরে তারা সেখান থেকে এস এম জিলানীর নিজ এলাকা টুঙ্গীপাড়া উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম এলাকায় তারা পথসভায় যোগ দেন।


গোপালগঞ্জে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


No comments:

Post a Comment

Pages