মুচিদের পুনর্বাসন করে কউক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্ত স্থাপন - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Wednesday, 10 November 2021

মুচিদের পুনর্বাসন করে কউক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্ত স্থাপন


সময় ডেস্ক :
কক্সবাজার পর্যটন শহরে মুচিদের স্থায়ী পুনর্বাসন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। ছেড়া জুতা জোড়া লাগাতে, কালি দিয়ে পালিশ করতে পৃথক মার্কেট তৈরি করে দিলেন চর্মকারদের। রাস্তায় রাস্তায় রোদ বৃষ্টিতে কষ্টকর জীবনের অবসান ঘটলো ২২ মুচি পরিবারের।


হন্যে হয়ে মুচিদের খুঁজতে হয় না এখন আর। কক্সবাজার শহরের প্রাণ কেন্দ্র ঐতিহাসিক দৃষ্টি নন্দন লাল দীঘির পশ্চিম পাড়স্থ জামে মসজিদের নিচ তলায় সমাজের পিছিয়ে পড়া  মুচিদের বিনামূল্যে মার্কেটের দখল বুঝিয়ে দিলেন গত বছর ডিসেম্বর মাসে  বিজয় দিবস উপলক্ষে। সম্ভবত দেশে এই প্রথম মুচিদের জন্য বিনামূল্যে  দোকানের স্থায়ী মালিক করে দেয়া হলো। ভিন দেশের নয়, আমাদের দেশেই ২২ জন মুচিকে নিয়ে গড়ে উঠেছে বুট পালিশ মার্কেট।



মতিলাল ঋষি দাস, ছোট বেলাতেই বাবার সঙ্গে জুতা মেরামতের কাজ করতেন লাল দীঘির পশ্চিম পাড়ে সরকারি রাস্তায়। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি সব মাথায় নিয়ে, বংশ পরম্পরায় কক্সবাজার লাল দীঘির পাড়ে বসেই এ কাজ করতেন মতি। কখনো স্বপ্নেও যা কল্পনা করেননি মতি। তা এখন রূপ নিয়েছে বাস্তবে। এ জন্য তিনি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফোরকান আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার আন্তরিকতায় মুচিরা ফিরে পেয়েছেন রুটি রুজির ঠিকানা ও সম্মান।


মতিলালের মতো স্বস্তি ফিরেছে অরবিন্দর ঋষি দাস, প্রমোদ দাসসহ এই মার্কেটে ব্যবসা করা ২২ জনের মনে। গরম থেকে বাঁচতে মাথার ওপর আছে  ছাদের নিচে আছে পাখা। আছে নিজেদের নির্দিষ্ট দোকান। সব মিলিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কক্সবাজারের সুশীল সমাজ।



এক ছাদের নিচে ২২ জন মুচি থাকায় আগের মতো আর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হয় না ছেড়া জুতা নিয়ে গ্রাহকদের। নির্দিষ্ট জায়গায় এসেই নিজেদের কাজ সময় মতো করাতে পারছেন জুতো ব্যবহারকারীরা। এ জন্য মুচিদের এ পুনর্বাসন ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শহরবাসী।


কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল ফোরকান আহমেদ বলেন, পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য বাড়াতেই  এবং সেবা গ্রহীতাদের উন্নত সেবা প্রাপ্তির জন্যই এই উদ্যোগ। বেদখল একটি দিঘি দখল মুক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে বুট পালিশ মার্কেট। আর বিনোদন পার্ক  এবং তৈরি করা হয়েছে মসজিদ। ২২ মুচির মধ্যে এক মাত্র মুসলিম কবির আহমেদ ।


অন্যান্য মুচিদের মধ্যে যাদের পূনর্বাসন করা হয়েছে তারা হচ্ছেন, সুব্রত দাশ, মনোরঞ্জন দাশ, সবীজ দাশ, সনজিদ দাশ, বাবুল দাশ, বাদল চন্দ্র ঋৃষি, মতিলাল রিশি দাশ, অরবিন্দু ঋৃষি দাশ, মুখোশ দাশ, নিধন দাশ, দোলন দাশ, হরেকৃষ্ণ দাশ, কৃষাণ ঋৃষি দাশ, রিপন দাশ, সুনীল দাশ, মিলন দাশ, অজিত দাশ, দুলাল দাশ, অমরচান ঋৃষি দাশ,গোপীচান দাশ, রাশি ঋৃষি দাশ ও কবির আহমেদ।


No comments:

Post a Comment

Pages