সময় ডেস্ক : হাত-পা-মুখ বেঁধে বাবা ও মাকে জমির দলিলের জন্য হত্যা করে কুলাঙ্গার এক ছেলে। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জোড়া হত্যাকাণ্ডের সাতদিন পর হত্যাকারী ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শচীন চাকমা।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- নিহত হাফিজুর রহমানের বড় ছেলে আব্দুল মতিন মিঠু, ঐ উপজেলার ধরঞ্জী গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে রাজন মিয়া, একই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শচীন চাকমা বলেন, ৪ নভেম্বর রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের নির্শা কাজলদিঘী গ্রামের হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী ফেন্সিয়ারা বেগমকে নিজ বাড়িতে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। ডাকাতির নাটক সাজিয়ে তাদের হত্যা করে ছেলে মিঠু। তদন্তে নেমে সব তথ্য-আলামত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিঠুসহ জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়- বাবা হাফিজুর রহমানের জমির দলিল চুরি করতে আপন ফুপাতো ভাই সুলতান মাহমুদকে দায়িত্ব দেয় আব্দুল মতিন মিঠু। এর বিনিময়ে তাকে টাকা ও স্বর্ণালংকার দেওয়ার প্রলোভন দেখায় সে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সুলতান মাহমুদ তার সহযোগীদের নিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও দলিল চুরি করতে পারেনি। ঘটনার রাতে তারা ডাকাতি করতে ঘরে ঢুকে হাফিজুর রহমান ও ফেন্সিয়ারা বেগমকে মুখে টেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং জমির দলিল, টকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, জেলা পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। আরো অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নবাবগঞ্জ থানার ওসি ফেরদৌস, পরিদর্শক (তদন্ত) তাওহীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
No comments:
Post a Comment