সময় ডেস্ক : ইদানিং সিলেটে সিরিজ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটছে। বড় ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষে আগামী ৬ মাসের মধ্যে সিলেট নগরীর সব ভবন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে মাঠে নামছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বিশেষজ্ঞ দল। এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে বুধবার শাবিপ্রবিতে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাথে কাজ করতে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তারা।
জানা গেছে, এই মুহূর্তে বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণার চেয়ে ভূমিকম্প ঝুঁকির শহরে মানুষকে বাঁচানো বা ক্ষয়ক্ষতি কিভাবে কমিয়ে আনা যায় সেদিকে লক্ষ রেখেই কাজ শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নগরীর সকল ভবনের সক্ষমতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। চিহ্নিত করবেন ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন।
এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের ভিতর যতগুলো ভবন আছে সবগুলো পরীক্ষা করা হবে। সিসিকের সমন্বয়ে আমরা এ কাজটি করব। কিন্তু এটা আমাদের পক্ষে একা করা সম্ভব না। তাই সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও ছাত্রদেরকেও নেওয়া হবে। সকলে মিলে কাজটি করব। এ ক্ষেত্রে সকল ভবন পরীক্ষা শেষ করতে হয়ত ৬ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে।’
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিপজ্জনক ডাউকি ফল্টলাইনে ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কম। তাই সম্ভাব্য দুর্যোগের এই মাত্রা ধরে নিয়েই কর্মপরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পের নতুন করে কোন ফল্ট তৈরি হয়েছে কি না তা নিয়ে কোন গবেষণা করার পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জহির বিন আলম বলেন, ‘ভূমিকম্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ফল্ট সেটি ডাউকি। সে হিসেবে এ ফল্ট যে কোন সময় ৬ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করার শক্তি রাখে। তাই এখন গবেষণার চেয়ে মানুষকে বাঁচানো বা ক্ষয়ক্ষতি কি ভাবে কমিয়ে আনা যায় সেদিকে লক্ষ দেওয়া জরুরি। কিন্তু নতুন কোনে ফল্ট তৈরি হচ্ছে কি না সেটিও গবেষণার প্রয়োজন। সেটি নিয়েও কাজ হবে। আপাতত ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি জরুরি।
এদিকে সোমবার ফের দুই দফা ভূমিকম্পের পর কঠোর হতে যাচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য দুর্যোগের বিষয়টি মাথায় রেখে এরই মধ্যে ৩০ মে থেকে বন্ধ থাকা ৬টি মার্কেটসহ ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিকদের কাছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে তারা।
গত ২৯ মে কয়েকদফা ভূমিকম্প পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নগরের ৬ টি মার্কেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গত সোমবার (৩১ মে) সকাল থেকে বুধবার ( ৯ জুন) পর্যন্ত এ সকল মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মার্কেটগুলো হলো- সিলেট নগরীর মিতালি ম্যানশন, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, রাজা ম্যানশন, সমবায় ভবন ও সুরমা মার্কেট। এই ৬টি ভবন (মার্কেট) আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় ছিল বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া অতিঝুঁকিতে থাকা জিন্দাবাজারের একটি দোকান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর পনিটুলা এলাকায় সামান্য হেলে থাকা ভবনের বাসিন্দাদেরও ১০ দিনের জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment