সময় ডেস্ক : মাথায় টুপি, পরনে লম্বা পাঞ্জাবি, ভিক্ষুক সেজে গ্রামগঞ্জে গিয়ে ছোট বাচ্চাদের মাথায় হাত বুলিয়ে বাড়ি ও শিশুর মা’কে খুঁজে বের করার কৌশলে তৎপর। সুযোগ বুঝে গ্রামের সহজ সরল নারীদের স্বর্ণালঙ্কার প্রদান ও বড়লোক বানানোর আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে চম্পট দিতো এ প্রতারক চক্রটি।
কখনো আবার মোবাইল ফোনে জিনের বাদশা পরিচয়ে গুপ্তধন পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসও দিতো তারা। এমনি এক প্রতারক চক্রের দুই সদস্য মোক্তার হোসেন ও লুৎফর রহমানকে আটকের পর পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
সোমবার বেলা ১১ টায় পার্বতীপুর উপজেলার মোমিনপুর ইউপির গোবিন্দপুর বাজারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার দুই প্রতারকের বাড়ি পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউপির শেরপুর তেলীপাড়া গ্রামে।
জানা যায়, ভাগ্য পরিবর্তনের আশ্বাসে গত বছর মোমিনপুর ইউপির গোবিন্দপুর বাজারপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন গ্রামের ফেরদৌসের স্ত্রী কোহিনুর বেগমকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতাকর চক্রের সদস্য মোক্তার হোসেন। টাকা নেয়ার আগে একটি কোরআন শরিফ ও একটি পাত্রে গরম পানি আনতে বলে ওই গৃহবধূকে। পানির পাত্রকে লালসালু কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে বিশ্বস্ততা লাভের আশায় কোরআন শরিফের ওপর টাকা রাখতে বলে প্রতারক মোক্তার।
দুই ঘণ্টার মধ্যে গরম পানি সোনা হয়ে যাবে এ কথা বলে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে সটকে পড়েন তিনি। এ দিকে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সোনা না পেয়ে ওই নাম্বারে কল দিলে ফোন বন্ধ পান ওই ভুক্তভোগী।
এক বছরের ব্যবধানে গত সোমবার সকালে আবারো ওই গ্রামে আসলে তাদের দেখতে পেয়ে আটক করে এলাকাবাসী। দুই প্রতারককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি ইমাম জাফর বলেন, আটকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭দিনের জেল দিয়ে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment