সাংবাদিককে দলিল লেখক অফিসে নির্যাতন, ৪ জন কারাগারে - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Sunday, 13 June 2021

সাংবাদিককে দলিল লেখক অফিসে নির্যাতন, ৪ জন কারাগারে

(বাম থেকে) দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার, সভাপতি এরশাদ আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন রানা

সময় ডেস্ক :
নওগাঁয় সাংবাদিক নির্যাতন মামলায় এজাহারভুক্ত চারজন আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। 


রোববার (১৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে নওগাঁ ২ নম্বর আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ কুমার বসাক এ নির্দেশ দেন।


তারা হলেন- প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এরশাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন রানা ও খাদেমুল ইসলাম।


আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এএসআই মামুনুর রশীদ।


এর আগে, শনিবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের দাওইল গ্রাম থেকে দলিল লেখক সমিতির সদস্য মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে পাঁচজন আসামি রয়েছেন কারাগারে।


মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতি সাধারণ মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করে দীর্ঘদিন থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করে আসছেন। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে হয়রানি শিকার ও জমি রেজিস্ট্রি বন্ধ করে দেন তারা।


৮ জুন সাংবাদিক আব্বাস আলীর বড় ভাই আসাদ আলী তার পারিবারিক জমি রেজিস্ট্রি করতে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতিতে যান। সেখানে দলিল লেখকের সাধারণ সম্পাদকের বাবুল আক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে একটি দলিল ১২ লাখ টাকা মূল্যে করতে চান। এতে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়। যা সরকারি মূল্যের চাইতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়।


বিষয়টি আসাদ আলী তার ছোট ভাই সাংবাদিক আব্বাস আলীকে জানালে তিনি সশরীরে সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তারের সঙ্গে দেখা করে খরচ কিছু কমানোর অনুরোধ জানান। কোনো কম হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। দলিল রেজিস্ট্রিতে সরকারি খরচের বিষয় জানতে চাইলে বাবুল আক্তারসহ অফিসের আরও কয়েকজন আব্বাস আলীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী আচরণ করে দলিল লেখক সমিতি চত্বর থেকে বের করে দেন।


বিষয়টি সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলোচনা করতে তার এজলাস ঢুকলে ১০-১২ জন তাকে এজলাস কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বারান্দায় নিয়ে মারধর করেন। আব্বাস আলীর কাছে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেন তারা। যার মধ্যে জমি রেজিস্ট্রি বাবদ ৩ লাখ টাকা, ভিডিও ক্যামেরা ও একটি ল্যাপটপ ছিল।


পরে কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্বাস আলী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।


No comments:

Post a Comment

Pages