ডিবির জালে বিষাক্ত মদ সরবরাহকারী ১৩ জন আটক - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Sunday, 7 February 2021

ডিবির জালে বিষাক্ত মদ সরবরাহকারী ১৩ জন আটক


সময় ডেস্ক :
সম্প্রতি বিষাক্ত মদ পান করে ঢাকায় ১৩ জনের মৃত্যু ও কয়েকজনের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় এক নারীসহ ১৩ জন খুচরা সরবরাহকারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় চার মাস ধরে তারাই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বিষাক্ত মদ সরবরাহ করে আসছিলেন বলে জানতে পেরেছে ডিবি পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।


গতকাল ডিবি পুলিশের (গুলশান) কর্মকর্তারা রাজধানীর তেজগাঁও ও ভাটারায় অভিযান চালিয়ে মনতোষ চন্দ্র অধিকারী ওরফে আকাশ, রেদোয়ান উল্লাহ, সাগর ব্যাপারী, নাসির আহমেদ ওরফে রুহুল, জাহাঙ্গীর আলম  ও সৈয়দ আল আমিন নামে ছয়জনকে গ্রেফতার করে। এরপর বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা পুলিশ গ্রেফতার করে জাহিদ মোল্লা নামের আরেকজনকে।


ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, চক্রটির উৎপাদিত মদ বিভিন্ন ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতেন ১৩ জন খুচরা সরবরাহকারী। তারাই গাজীপুরে অবকাশ যাপনে যাওয়া দলটিকে রাজধানীর বনানীতে গত ২৮ জানুয়ারি বিষাক্ত মদ পৌঁছে দেন। এর বাইরে বারিধারা ডিওএইচএস, ভাটারা ও মোহাম্মদপুরে এই সরবরাহকারীদের মাধ্যমেই মদ পৌঁছে দিয়েছিলেন চক্রের লোকজন। ওই একদিনে তারা ৩৭ বোতল মদ সরবরাহ করেন। ক্রেতাদের কে কেমন আছেন, পুলিশ সে ব্যাপারে খোঁজ রাখছে।


বনানীতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে মোটরসাইকেল আরোহী দুইজন একটি থলে দিয়ে যান। পুলিশ বলছে, ওই দুইজনের একজন ছিলেন রেদোয়ান ও অন্যজন জাহিদ। এছাড়া একই চক্রের কাছ থেকে মদ কেনেন বারিধারা ডিওএইচএসের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। সেই ফুটেজও এখন পুলিশের হাতে।


গত সোমবার পুলিশ যে চক্রটিকে গ্রেফতার করে, তাদের হিসাবের খাতায় সরবরাহকারীদের নাম লেখা আছে। তবে নারী সরবরাহকারীর নাম লেখা আছে ‘ম্যাডাম’ হিসেবে। তিনি ধানমন্ডিতে থাকেন। পুলিশের ধারণা, তিনি নিজের বাসা থেকেই এই মদ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। গত ২৮ জানুয়ারি এই নারীও ছয় বোতল মদ কেনেন।

 

গুলশান বিভাগের ডিবি পুলিশের ডিসি মশিউর রহমান বলেন, গ্রেফতার চক্রটি মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত প্রায় চার বছর ধরে। তবে তারা মদ বানাতে শুরু করে মাস চারেক আগে। বাজারে সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নেয় তারা। যারা নিয়মিত মদ পান করেন, তারা বিশ্বাস করেই এই সূত্রগুলোর ওপর নির্ভর করেছিলেন এবং বিনা দ্বিধায় মদ কেনেন।


মদে চক্রটি ঠিক কী কী উপাদান মিশিয়েছে, জানতে পুলিশ আদালতের কাছে নমুনা পরীক্ষার আবেদন করেছে। অনুমতি পাওয়া গেলেই রাসায়নিক পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হবে।


No comments:

Post a Comment

Pages