সময় ডেস্ক : সিলেটে এক পরিবহন শ্রমিকনেতাকে মাদকসহ আটক করেছে বিজিবি। তার প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করায় আটকা পড়ে শতশত যানবাহন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে দক্ষিণ সুরমার অতির বাড়ি এলাকা থেকে ১৯৯ পিস ইয়াবাসহ মো. হারিছ আলী আটক করে বিজিবি-১৯। হারিছ আলী সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের ১ম মেম্বার।
শ্রমিক নেতা হারিছ আলীকে আটকের বিষয় নিয়ে সৃষ্টি হয় ধুম্রজাল। বিজিবির দাবি তাকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে, আর শ্রমিকদের দাবি নিরপরাধ শ্রমিক নেতাকে বিনা কারণে ইয়াবার নাটক সাজিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা রাত ১০ টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সড়ক অবরোধ করেন। রাত ৩টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলছিল।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত বলেন, ‘হারিছ আলীর বাড়ি ওই এলাকায়। তারা প্রতিদিন এখানে আড্ডা দেন। ওইদিন সে ক্যারম খেলছিলো। এসময় হঠাৎ করে বিজিবির একটি গাড়ি এসে হারিছ আলীর মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে হারিছ আলীকে ডাকতে থাকে। তখন হারিছ আলী গাড়ির কাছে আসলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকল মানুষকে সরিয়ে দিয়ে হারিছ আলীকে বলেন গাড়িতে ১ প্যাকেট ইয়াবা পাওয়া গেছে। পরে আবার বিজিবি মানুষ ডেকে এনে সকলকে বলে এই গাড়িতে ইয়াবা পাওয়া গেছে। এই বলে তাকে এবং তার মোটরসাইকেল বিজিবি নিয়ে আসে। এরপর আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আখালিয়া বিজিবি ক্যাম্পে গেলেও বিজিবির কমান্ডার দেখা করতে দেননি। পরে শ্রমিকরা রাত ১০ টার দিকে সড়ক অবরোধ করে।’
শ্রমিক নেতা আব্দুল মুহিত আরো বলেন, ‘আমাদের নির্দোষ শ্রমিককে ফাঁসানো হয়েছে। সে যদি ইয়াবা ব্যবসায়ী হয় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু নির্দোষ একজন শ্রমিককে এভাবে আটক করা কোনভাবেই উচিত হয়নি। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
অপরদিকে বিজিবির দাবি, হারিছ আলীর কাছ থেকে ১৯৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়ন এর কমান্ডার লে. কর্নেল মো. রফিকুল ইসলাম সিলেট বলেন, ‘আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ওই ব্যক্তির কাছে ইয়াবা আছে। তাৎক্ষণিক আমি একদল ফোর্স পাঠালে দক্ষিণ সুরমার অতির বাড়ি এলাকায় গিয়ে তার মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। তখন তাকে ডেকে এনে শরীর তল্লাশি করে ইয়াবার একটি পোটলা পাওয়া যায়। এই পোটলায় ১৯৯ পিস ইয়াবা ছিলো। পরে তাকে মোটরসাইকেলসহ ফোর্স নিয়ে আসে। এরপর রাতে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে আমি কাউকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেইনি। আটক হারিছ আলীকে দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এসময় পুলিশকে সাথে নেওয়া হয়েছিলো কি না বা থানা এলাকায় পুলিশকে জানানো উচিত ছিলো কিনা জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খুব কম সময়ে অভিযানটি হয়েছে। পরে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে তাদের আগে না জানানো উচিত ছিলো।’
এদিকে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, ‘বিজিবি একজন শ্রমিককে আটক করেছে। বিজিবির দাবি ইয়াবা পেয়েছে। আর শ্রমিকদের দাবি ওই শ্রমিক নির্দোষ। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। আলোচনা করছি।’
থানা এলাকায় বিজিবি কাউকে আটক করতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি বিজিবিকে জিজ্ঞাসা করেন। তারাই ভালো বলতে পারবে।’

No comments:
Post a Comment