নিজস্ব সংবাদদাতা : সময় আমাদের নিউজ পোর্টালে বাবর হোসেনের প্রতিবেদনে- 'পরিবেশ অধিদপ্তর অফিসের সামনে অবৈধ পাথর বাণিজ্য! ইজারাদার সাংবাদিকরা' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে সুরমার পাড়ের অবৈধ পাথর সাম্রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মোঃ এমরান হোসেন।
সিলেট নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের শাহজালাল ব্রিজ সংলগ্ন কদমতলী ফেরিঘাট এলাকায় গড়ে উঠা দ্বিতীয় লোভাছড়াখ্যাত পাথর রাজ্যে এ অভিযানে ১৬টি ক্রাশার মেশিনের ইঞ্জিন ধ্বংস করে জব্দ, ১৮টি বেল্ট কেটে জব্দসহ মোট ৪০টি মেশিন ও বেল্ট ধ্বংস করা হয়। সেই সাথে ৩৫ হাজার ফুট পাথর জব্দ করা হয় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে। যার অনুমানিক মুল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
সুরমা নদীর তীর সংলগ্ন কদমতলী ফেরিঘাট ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পিছনে গড়ে উঠা পাথর সাম্রাজ্যে অভিযান হবে বুঝতে পেরে
পাথরখেকোরা ফেলোডার মেশিনসহ আরো বেশ কিছু মালামাল সড়িয়ে নেয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনের মাধ্যমে অভিযানের সেই খবর ফাঁস হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্রাইম সিলেট, সুরামার ডাক ২৪ নেট, সময় আমাদের, সিলেট প্রেস ও বাংলার বারুদে গতকাল (১২ জুলাই) সিনিয়র সাংবাদিক বাবর হোসেনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর টনক নড়ে পরিবশে অধিদপ্তরের। শুরু হয় নানা নাটকিয়তা। অবশেষে বাধ্য হয়ে পরদিন সোমবার (১৩ জুলাই) অভিযানে নামে পরিবেশ অধিদপ্তর। সিলেটের পরিচিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে (এস) নামে একজন নিউজ বন্ধ করার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেন।
অভিযোগ উঠে, সিলেট বিভাগীয় জুনিয়র কেমিস্ট মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনকে ম্যানেজ করে পাথরের অবৈধ ব্যবসায়ীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের পিছনে বেশ কয়েকটি ক্রাশার মেশিন দিয়ে বিরামহীন ভাবে পাথর ভাঙ্গতে থাকেন। আদালতের আদেশ অমান্য করে লোভাছড়া থেকে চোরাইপথে কোর্গো দিয়ে পাথর এনে এখানে ভেঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতো। আর সেই স্থানটি বিশাল ও নিরাপদ পাথরযজ্ঞে পরিণত হয়। চলতে থাকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ পাথর বাণিজ্য। সেখান থেকে লোভাছড়ার আলোচিত পলাশ ও তাঁর সহযোগীরা বিশাল অংকের মুনাফা পেতেন। তারাই প্রশাসন, সাংবাদিকদের ঠিকাদার ও বিভিন্ন দফতর নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেখানে ক্ষমতাধর স্থানীয় নজরুল ইসলাম, কবির মিয়া, লিটন, নাসির, কামরুল’সহতাদের সন্তান ও স্বজনরা। তাছাড়া শাহপরাণ থানার মুরাদপুর শাহপরাণ সেতুর নিচে কামাল হোসেনের স্টোন ক্রাশার মিল ও মিরের চক আমির হোসেনের ক্রাশার মিল এবং লায়েক মিয়া ও হেলাল মিয়ার ক্রাশার মিল চলছিলো।
অভিযানের ব্যাপরে ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানের ফলে আগামীতে কেউ পরিবেশ ধংস করতে আর সাহস পাবে না। জব্দ মালামাল আমার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিলাম করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ এমরান হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটন নগরীতে এভাবে অবৈধ পাথ কোয়ারী ও ক্রাশার মেশিন বসা কিছুতেই মেনে নিতে পারিনি। তাই অভিযান দিয়ে ৪০টি যন্ত্রাংস ধ্বংস করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার দুপুরে মালামাল প্রকাশ্যে নিলাম হবে।


No comments:
Post a Comment