সময় ডেস্ক : মহামারি কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য ফোন করলে বাসায় গিয়ে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করা হতো। বিনিময়ে নেওয়া হতো সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার ছয়শ টাকা। কিন্তু সেই নমুনার কোনো পরীক্ষা ছাড়া একদিন পরেই পরীক্ষার ফল দেওয়া হতো। এমন অভিযোগ উঠেছে জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার (জেকেজি হেলথকেয়ার) বিরুদ্ধে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) তাদেরকে বিনামূল্যে করোনার নমুনা সংগ্রহের অনুমিত দিয়েছিলো।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চল মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল চৌধুরীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ বলছে অন্তত ৩৭ জনকে ভুয়া ফল দেওয়ার বিষয়টি তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। অধিকতর তদন্তের জন্য পাঁচটি ল্যাপটপ, দুটি ডেস্কটপ এবং করোনার নমুনা সংগ্রহের তিন হাজার কিট জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার বাকি চারজন হলেন, হুমায়ুন কবীর, তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারি এবং সাইদ চৌধুরী ও আলমান। এর মধ্যে হুমায়ুন ও তানজীনা এক সময় জেকেজিতে কর্মরত ছিলেন। এখন তারা নিজেরাই নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা ছাড়াই ফল দেন। বাকি দুজন এখনো জেকেজিতে কর্মরত আছেন।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, একজন ভূক্তভোগী তাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। জানিয়েছিলেন তার বাসায় গিয়ে নমুনা নিয়ে আসা হয়েছে। এরপর একদিনের মধ্যেই ফল দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তার করোনা শনাক্ত হয়নি। পরবর্তীতে অন্য জায়গায় পরীক্ষা করে দেখেছেন তার করোন শনাক্ত হয়েছে। এমন অভিযোগের পর তারা তদন্ত করতে গিয়ে প্রথমে হুমায়ুন্ কবীর ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেকেজির সিইওসহ বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইইডিসিআর এর অনুমতি সাপেক্ষে জেকেজি বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পৃথক ছয়টি স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করেছিলো। এসব এলাকা থেকে প্রতিদিন তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ জনের নমুনা সংগ্রহ করতো জেকেজি। শর্ত ছিলো সরকার নির্ধারিত করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠাতে হবে। জেকেজি হেলথকেয়ার ওভাল গ্রুপের একটি অঙ্গসংগঠন।
তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদ বলেন, বিনামূল্যে কার্যক্রম শুরু করলেও এক পর্যায়ে জেকেজি অর্থের সংকুলান করতে পারছিলো না। তখন তারা বুকিং বিডি ও হেলথ কেয়ার নামে আরও দুটি প্ল্যাটফর্ম চালু করে। এই দুটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করে তারা।
মাহমুদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হুমায়ুন ও তানজীনা বলেছেন সংগ্রহীত নমুনা তারা ফেলে দিতেন। এরপর নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী আইইডিসিআর এর প্যাডে ফল লিখে তা মেইল করে পাঠিয়ে দিতেন।
ওভাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরী বলেন, আদর্শের সঙ্গে না মেলায় এক মাসে আগে তিনি জেকেজি ছেড়ে চলে এসেছেন। বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও জানিয়েছেন। এরপর আরিফুল হক চৌধুরী একদিন তার হাসপাতালে (জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট) এসে ঝামেলা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং তিনি নিজে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। এখন তিনি তার বাবার বাসায় অবস্থান করছেন।
আরিফুলের বিরুদ্ধে পরীক্ষা ছাড়াই করোনা শনাক্তের ফল দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। যে দুটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাসা থেকে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হতো সে দুটি প্ল্যাটফর্মের বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেণ। সূত্র : প্রথম আলো

No comments:
Post a Comment