সময় ডেস্ক : ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের (এলাহাবাদ) পশ্চিমাঞ্চলের কানতি গ্রামে এক নৃশংস ‘অনার কিলিং’ ঘটেছে—নিজের মেয়েকে হত্যার অভিযোগে বাবা-মাকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটি একাধিক ছেলে সঙ্গেও কথোপকথনে জড়িয়েছিল বলেই অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে এই কাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, প্রথমে মা মেয়ের খাবারে ঘুমাবিষ মিলিয়ে তাকে অচেতন করেছেন; পরে বাবা মেয়েকে বাড়ি থেকে কিছু দূরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে লাশ ফেলে বাড়ি ফিরে এসে পরের ভোরে অভিযোগ করে জানান মেয়েটি বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। স্থানীয়রা পরে ক্ষেতে মেয়ের লাশ দেখতে পান।
ঘটনার তদন্তে ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ময়নাতদন্তে মৃত্যু-সময় ও খাওয়ার অবস্থা মিলিয়ে পরিবারের বয়ান পুলিশের তথ্যের সঙ্গে খোটে। কুকুর বাহিনীর সনাক্তকরণও তদন্তের সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। পরে জেরায় সন্দেহভাজন বাবামানুষ রমেশ অপরাধ স্বীকার করেন এবং মায়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও তদন্তাধীন।
স্থানীয় ডেপুটি কমিশনার বিবেকচন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণরূপে ‘অনার কিলিং’ হিসেবে দেখা হচ্ছে; দম্পতিকে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ও শোক বিরাজ করছে।
এই ধরনের ঘটনাগুলোতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, কন্যাশ্চিৎকার সংস্কৃতি ও আইনি সচেতনতার অভাবের প্রশ্নগুলো উঠে আসে—বিশেষত যখন পরিবারই ন্যায়বিচারে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

No comments:
Post a Comment