সুনামগঞ্জে ১১টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার মানুষ পানিবন্দী, দুর্ভোগ সীমাহীন - সময় আমাদের (somoy amader)

শিরোনাম


Sunday, 12 July 2020

সুনামগঞ্জে ১১টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার মানুষ পানিবন্দী, দুর্ভোগ সীমাহীন

সুনামগঞ্জে ১১টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার মানুষ পানিবন্দী, দুর্ভোগ সীমাহীন
সময় ডেস্ক : ভারী বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলার ও ৪টি পৌরসভার কয়েক লাখ মানুষকে এখনো পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যদিও শনিবারের চেয়ে রোববার কিছুটা পানি কমেছে। বৃষ্টিপাতও থেমে থেমে হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাবিবুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৫০ মিলিমিটার, ভারতের চেরাপঞ্জিতে বৃষ্টি পাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৬৬ মিলিমিটার। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 

সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বখত জানান, এখনো পৌর এলাকার অনেক বাড়ি, দোকান, সড়ক পানির নিচে রয়েছে। তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। 

জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। দুই দিন ধরে জেলা সদরের সাথে ৫ টি উপজেলা বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতকের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ সংযোগ সড়কও। 

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মোক্তাদির হোসেন জানান, উপজেলার সব ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ১০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। 

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম কবীর জানান, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের মুফতির গাঁও এর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনের সড়কে পানি বেশি থাকায় যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা জানান, এডিএম সোহেল মাহমুদকে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মি জানান, উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন প্রায় ৫শ' মানুষ। তাদের শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় রোপা আমনের বীজ তলা ১৫১ হেক্টর, সবজি ৩৫ হেক্টর ও আউশ ৬৪১ হেক্টর পানির নিচে প্লাবিত রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা সোহালা, গরেরঘাট বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। বানের পানিতে ভেসে গেছে ফাজিলপুর জামে মসজিদ। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিননাকুলি বাজারে ৪টি দোকান। 

চানপুর-বাগলি সীমান্ত সড়ক যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ৩৪৮৬ টি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় ৩০কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯০৮ জন খামারী। জনদুর্ভোগের পাশাপাশি গবাদি পশুদের নিয়ে আরো বেশি বিপাকে পড়েছেন মানুষ, সেই সাথে গো খাদ্যের সংকটে উদ্বিগ্ন কৃষকরা। নলকূপগুলো পানির নিচে তলিয়ে হওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের আশংকা রয়েছে। 

হাওর পাড়ের গ্রামগুলোতে প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে বাড়ি ঘর হুমকির সম্মুখীন। ঘরগুলো কচুরিপানা দিয়ে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম জানান, বন্যার সময় যাতে চুরি, ডাকাতি না হয়- সে জন্য ওসিদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ৩৪৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৬ লাখ টাকা ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণে সতর্ক থাকতে ইউএনওদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুরো বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজেই খোঁজ খবর রাখছেন বলে জানান তিনি।



No comments:

Post a Comment

Pages